নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। বৈঠকে কমিটির কর্মপরিকল্পনা, কার্যপদ্ধতি এবং ভবিষ্যৎ কাজের রূপরেখা নির্ধারণে প্রাথমিক আলোচনা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে গঠিত ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটির প্রধান দায়িত্ব হলো সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়ন করে তা সংসদে উপস্থাপন করা। সংশোধন প্রস্তাব তৈরির আগে কমিটি সংশ্লিষ্ট আইন, পূর্ববর্তী সংস্কার প্রস্তাব, বিশেষজ্ঞ মতামত এবং রাজনৈতিক পক্ষগুলোর পরামর্শ পর্যালোচনা করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

যাদের নিয়ে গঠিত কমিটি

বিশেষ কমিটির সদস্যরা হলেন— চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, আন্দালিভ রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, সাকিলা ফারজানা, মো. মাহমুদুল হক রুবেল এবং মো. অলি উল্লাহ।

তবে বিরোধী দল এই কমিটিতে কোনো সদস্য মনোনয়ন দেয়নি। ফলে সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব না থাকায় রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রথম বৈঠকে যেসব বিষয়ে গুরুত্ব

কমিটির প্রথম বৈঠকে মূলত কাজের পদ্ধতি, বৈঠকের সময়সূচি, পরামর্শ গ্রহণের কাঠামো এবং সুপারিশ প্রণয়নের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া সংবিধানের কোন কোন অধ্যায় বা অনুচ্ছেদ পর্যালোচনা করা হবে এবং কীভাবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত নেওয়া হবে, সে বিষয়েও প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

যেসব প্রশ্ন এখনও অনিষ্পন্ন

সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে—

  • জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলোর অবস্থান।
  • বিশেষ কমিটির কাজের সুনির্দিষ্ট পরিধি।
  • প্রতিবেদন সংসদে জমা দেওয়ার সময়সীমা।
  • রাজনৈতিক দল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের মতামত গ্রহণের পদ্ধতি।

কমিটির কাজ শেষ করার জন্য এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।

কমিটি গঠনের প্রেক্ষাপট

গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদ সংবিধানে “প্রয়োজনীয় সংশোধন” বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে বিশেষ এই সংসদীয় কমিটি গঠন করে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সময়োপযোগী, কার্যকর ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই সংবিধানের বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হবে।

বিরোধী দলের সমালোচনা

এদিকে সংবিধান সংশোধনের এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছে বিরোধী দলগুলো। তাদের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যে সংবিধান সংস্কারের রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, বর্তমান প্রক্রিয়ায় তা থেকে সরে এসেছে বিএনপি। পাশাপাশি বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব ছাড়া এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগ জাতীয় ঐকমত্য অর্জনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলেও তারা দাবি করেছে।

অন্যদিকে সরকার বলছে, সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সংবিধান সংশোধনের সুপারিশ প্রস্তুত করা হবে এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল, বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের মতামতও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

সংবিধান সংশোধন কমিটির কার্যক্রম আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও গতি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই কমিটির সুপারিশ দেশের ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক কাঠামো নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।