আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

থাইল্যান্ডের নোনথাবুরি প্রদেশের ব্যাং ক্রুয়াই জেলার একটি স্কুলে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় মোট আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে হামলাকারীর দাদা-দাদি, তিনজন শিক্ষক ও তিনজন শিক্ষার্থী রয়েছেন। হামলার পর অভিযুক্ত নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী প্রথমে নিজের বাড়িতে দাদার লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে তার দাদা ও দাদিকে গুলি করে হত্যা করে। পরে ব্যাংককের উপকণ্ঠে অবস্থিত দেবসিরিন নোনথাবুরি স্কুলে গিয়ে নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন শিক্ষক ও তিন শিক্ষার্থী নিহত হন এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

নোনথাবুরি প্রাদেশিক পুলিশের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেচরাপি কংদি জানান, হামলাকারী নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল, যার বয়স আনুমানিক ১৪ বছর। হামলার পর সে আত্মহত্যা করেছে। ঘটনাস্থল থেকে ২৬ রাউন্ড গুলি ছোড়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং পুলিশ আরও ৩৪ রাউন্ড অব্যবহৃত গুলি উদ্ধার করেছে।

ঘটনার পরপরই পুলিশ, উদ্ধারকর্মী ও জরুরি চিকিৎসাসেবাকর্মীরা দ্রুত স্কুলে পৌঁছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে তদন্ত শুরু করা হয়।

ছবিঃ রয়টার্স

প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী রয়টার্সকে জানান, প্রথমে গুলির শব্দ আতশবাজি বা কোনো ভারী বস্তু পড়ার শব্দ বলে মনে হয়েছিল। পরে একের পর এক গুলির শব্দ শুনে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারেন তারা। অনেক শিক্ষার্থী প্রাণ বাঁচাতে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে আশ্রয় নেয়। পরে পুলিশ এসে তাদের নিরাপদে বের করে আনে।

হামলার প্রায় এক ঘণ্টা পর স্কুলের বাইরে শোকাহত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একে অপরকে সান্ত্বনা দিতে দেখা যায়। একই সময়ে পুলিশ ও ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে আলামত সংগ্রহে কাজ শুরু করে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে দেবসিরিন নোনথাবুরি স্কুলে প্রায় ৩ হাজার ১০০ শিক্ষার্থী এবং ১৪৭ জন শিক্ষক কর্মরত ছিলেন। ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটি থাই রাজপরিবার প্রতিষ্ঠিত দেবসিরিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় নেটওয়ার্কের অংশ। দেশটির প্রধানমন্ত্রীসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি এ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী।

ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন থাইল্যান্ডের উপ-প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের চিকিৎসা ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরে থাইল্যান্ডে এটি দ্বিতীয় স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনা। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একটি বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলায় একজন শিক্ষক নিহত এবং এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছিল।

সূত্র: এপি, রয়টার্স, এএফপি ও ডিপিএ।