আজ শুরু হচ্ছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের নতুন মৌসুম। চ্যাম্পিয়ন আর্সেনালের সামনে শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, পেপ গার্দিওলাকে ছাড়া নতুন যুগে ম্যানচেস্টার সিটি। লিভারপুল, চেলসি, টটেনহ্যাম ও নিউক্যাসলেও নতুন কোচ ও নতুন পরিকল্পনা। সব মিলিয়ে ২০২৬–২৭ মৌসুম হতে যাচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম অনিশ্চিত ও আকর্ষণীয় প্রিমিয়ার লিগ মৌসুম।
খেলা ডেস্ক
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নতুন মৌসুম মানেই শুধু নতুন জার্সি, নতুন খেলোয়াড় কিংবা নতুন কোচ নয়। অনেক সময় একটি মৌসুমের চরিত্র বদলে যায় ফুটবলের অদৃশ্য কিছু পরিবর্তনেও। এবার যেমন বদল আসতে পারে পেনাল্টি বক্সের লড়াইয়ে।
নিয়মে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। কিন্তু নিয়ম প্রয়োগের ধরনে কঠোরতা বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ইংল্যান্ডের ম্যাচ কর্মকর্তারা। কর্নার ও ফ্রি–কিকের সময় বক্সের ভেতরে অপ্রয়োজনীয় টানাটানি, ধাক্কাধাক্কি ও প্রতিপক্ষকে আটকে রাখার প্রবণতার বিরুদ্ধে এবার রেফারিরা আরও সক্রিয় থাকবেন।
অর্থাৎ নতুন মৌসুমের শুরুতেই একটি বিষয় পরিষ্কার—প্রিমিয়ার লিগ আগের মতোই থাকবে, কিন্তু আগের মৌসুমের মতো নাও হতে পারে।
আজ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনালের ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে ২০২৬–২৭ মৌসুম। সামনে দীর্ঘ ৩৮ ম্যাচের লড়াই। কিন্তু এবার প্রশ্ন শুধু কে চ্যাম্পিয়ন হবে, তা নয়। প্রশ্ন হলো—ইংলিশ ফুটবলের ক্ষমতার মানচিত্র কি বদলে যাচ্ছে?
কারণ, প্রিমিয়ার লিগের কয়েকটি বড় ক্লাব একই সময়ে নিজেদের নতুন করে গড়ছে।

আর্সেনালের সামনে সবচেয়ে কঠিন কাজ—চ্যাম্পিয়ন থাকা
২২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ জিতেছিল আর্সেনাল। দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, ব্যর্থতার স্মৃতি এবং ‘প্রায় হয়ে গিয়েছিল’ ধরনের হতাশাকে পেছনে ফেলে অবশেষে মিকেল আর্তেতার দল ইংল্যান্ডের সেরা হয়েছে।
কিন্তু শিরোপা জেতার চেয়েও অনেক সময় কঠিন হলো সেটি ধরে রাখা।
কারণ, প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ক্ষুধা একরকম; চ্যাম্পিয়ন হিসেবে প্রতিপক্ষের মাঠে নামার চাপ সম্পূর্ণ ভিন্ন।
এবারও আর্সেনালের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের ধারাবাহিকতা। কোচ পরিবর্তন হয়নি, দলের মূল কাঠামো অটুট আছে। ডেকলান রাইস, মার্টিন ওডেগার্ড ও মার্টিন জুবিমেন্ডির মতো প্রতিষ্ঠিত নামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন ব্রুনো গিমারায়েস। নিউক্যাসল থেকে আসা ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার আর্সেনালের মাঝমাঠে শুধু শক্তিই বাড়াবেন না, ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং চাপের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারেন।
ক্রিস্তোস জোলিসের আগমন আক্রমণভাগে বিকল্প বাড়িয়েছে। তবে বড় প্রশ্নটি অন্য জায়গায়।
এই আর্সেনাল কি আগের মতো ক্ষুধার্ত থাকবে?
চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর অনেক দলই মানসিকভাবে কিছুটা ঢিলে হয়ে যায়। তার ওপর এবার ঘরোয়া লিগের পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও বড় লক্ষ্য থাকবে। গত মৌসুমে ইউরোপের শিরোপার খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হওয়ার অভিজ্ঞতা হয়তো আর্সেনালকে আরও ক্ষুধার্ত করবে, আবার বাড়তি চাপও তৈরি করতে পারে।
তবু কাগজে-কলমে আর্সেনালই মৌসুমের শুরুতে সবচেয়ে স্থিতিশীল দল।
পেপ–পরবর্তী ম্যানচেস্টার সিটি: একটি যুগের সমাপ্তি, অনিশ্চিত শুরুর গল্প
ম্যানচেস্টার সিটির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বিপরীত।
প্রায় এক দশক ধরে পেপ গার্দিওলার অধীনে ইংলিশ ফুটবলের সবচেয়ে প্রভাবশালী দলগুলোর একটি ছিল সিটি। সেই যুগ শেষ হওয়ার পর এবার এনজো মারেস্কার হাতে নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে।
কিন্তু নতুন কোচের জন্য কাজটি মোটেও সহজ নয়।
একদিকে রদ্রি, বার্নার্দো সিলভা, নাথান আকে, ম্যানুয়েল আকানজি ও জন স্টোনসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের বিদায়ে দলটির অভিজ্ঞতা ও কাঠামোয় বড় পরিবর্তন এসেছে। অন্যদিকে নতুন সিস্টেম, নতুন কোচ এবং পরিবর্তিত স্কোয়াড—সবকিছুকে খুব দ্রুত কার্যকর করতে হবে।
এলিয়ট অ্যান্ডারসনের মতো বড় বিনিয়োগ ভবিষ্যতের পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু তিনি রদ্রির মতো একজন খেলোয়াড়ের সরাসরি বিকল্প নন। আর সেটিই হতে পারে সিটির সবচেয়ে বড় সমস্যা।
সিটির খেলার অনেকটাই দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছিল মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণের ওপর। রদ্রির অনুপস্থিতিতে সেই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা মারেস্কার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
আর্লিং হালান্ড অবশ্য এখনও সিটির সবচেয়ে বড় অস্ত্র। কিন্তু একা হালান্ড কোনো দলের সমস্যার সমাধান নন। তাকে সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার জন্য প্রয়োজন কার্যকর মিডফিল্ড, দ্রুত ট্রানজিশন এবং সংগঠিত রক্ষণ।
কমিউনিটি শিল্ডে আর্সেনালের বিপক্ষে হার হয়তো মৌসুমের চূড়ান্ত চিত্র নয়, তবে এটি একটি সতর্কবার্তা—ম্যানচেস্টার সিটির নতুন যুগ শুরু হচ্ছে কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে।

লিভারপুলের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: সালাহর পর কে?
লিভারপুলের নতুন মৌসুমের গল্পে সবচেয়ে বড় শূন্যতার নাম মোহামেদ সালাহ।
প্রায় এক দশক ধরে লিভারপুলের আক্রমণের প্রতীক ছিলেন তিনি। গোল, অ্যাসিস্ট, ম্যাচ জেতানো মুহূর্ত—সব মিলিয়ে সালাহ শুধু একজন ফুটবলার ছিলেন না, অ্যানফিল্ড যুগের অন্যতম প্রধান মুখ।
তার বিদায়ের পর নতুন কোচ আন্দোনি ইরাওলার সামনে সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো লিভারপুলের আক্রমণকে নতুন পরিচয় দেওয়া।
ফ্লোরিয়ান ভিরৎস ও আলেক্সান্ডার ইসাকের মতো খেলোয়াড়দের ঘিরে নতুন আক্রমণভাগ তৈরি করা সম্ভব। কিন্তু এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে—ভালো খেলোয়াড় থাকা আর একটি প্রতিষ্ঠিত আক্রমণভাগ তৈরি করা এক জিনিস নয়।
ইরাওলা বোর্নমাউথে যে গতিশীল, উচ্চচাপের ফুটবল খেলিয়েছেন, সেটি লিভারপুলের ঐতিহ্যের সঙ্গে কিছুটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে অ্যানফিল্ডে প্রত্যাশার চাপ বোর্নমাউথের চেয়ে অনেক বেশি।
রক্ষণেও পরিবর্তন এসেছে। নতুন খেলোয়াড়দের দ্রুত মানিয়ে নিতে হবে।
লিভারপুলের জন্য তাই এবারের মৌসুম পুনর্গঠনের, কিন্তু একই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকার মৌসুম।
তারা কি সালাহকে প্রতিস্থাপন করবে, নাকি নতুন এক লিভারপুল তৈরি করবে?
এই প্রশ্নের উত্তরই হয়তো তাদের মৌসুম নির্ধারণ করবে।
চেলসির আরেক ‘নতুন যুগ’, এবার শাবি আলোনসোর পরীক্ষা
চেলসিতে নতুন যুগ কথাটি গত কয়েক বছরে এতবার বলা হয়েছে যে, সেটিই এখন ক্লাবটির বাস্তবতার অংশ হয়ে গেছে।
তবে এবার দায়িত্বে শাবি আলোনসো। আর তার আগমন চেলসির সমর্থকদের সামনে নতুন আশার জন্ম দিয়েছে।
গত মৌসুমে দশম স্থানে শেষ করা একটি দল এবার বড় বিনিয়োগ করেছে। মরগান রজার্সের মতো তরুণ প্রতিভাকে রেকর্ড অঙ্কে দলে নেওয়া হয়েছে। ম্যাক্সেন্স লাক্রোয়ার মতো ডিফেন্ডার এবং জর্ডান হেন্ডারসনের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারের সংযোজন দেখাচ্ছে, চেলসি এবার শুধু ভবিষ্যতের জন্য দল গড়ছে না; বর্তমানেও ফল চায়।
কোল পালমার এখনও এই দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারদের একজন। তবে চেলসির সমস্যা গত কয়েক মৌসুমে কখনোই শুধু একজন তারকাকে ঘিরে ছিল না। তাদের বড় সমস্যা ছিল ধারাবাহিকতা।
এক ম্যাচে দুর্দান্ত, পরের ম্যাচেই সম্পূর্ণ ভেঙে পড়া—এই চক্র থেকে বের হতে না পারলে নতুন কোচ, নতুন খেলোয়াড় কিংবা বড় অঙ্কের ট্রান্সফারও খুব বেশি পরিবর্তন আনবে না।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বা ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার বাড়তি চাপ না থাকায় আলোনসোর হাতে দলকে গুছিয়ে নেওয়ার সময় থাকবে। সেটি চেলসির জন্য সুবিধা হতে পারে।
তবে এই মৌসুমে তাদের জন্য বাস্তবসম্মত লক্ষ্য সম্ভবত শিরোপা নয়—আবার ইংল্যান্ডের অভিজাত পর্যায়ে ফিরে আসা।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড: ক্যারিকের হানিমুন শেষ, এবার আসল পরীক্ষা
জানুয়ারিতে দায়িত্ব নিয়ে দলকে ঘুরে দাঁড় করিয়েছিলেন মাইকেল ক্যারিক। অন্তর্বর্তী কোচ হিসেবে তার সাফল্য ছিল আশাব্যঞ্জক। কিন্তু এবার তিনি পুরো মৌসুমের দায়িত্বে।
আর এখানেই শুরু হবে আসল পরীক্ষা।
স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি দলকে চাঙা করা এবং দীর্ঘ মৌসুমজুড়ে প্রতিযোগিতায় রাখা এক বিষয় নয়। ক্যারিকের সামনে এবার থাকবে চোট, ফর্মহীনতা, চাপ, বড় ম্যাচ এবং টানা খেলার বাস্তবতা।
ইউরি টিলেমানস ও আন্দ্রে সান্তোসের মতো মিডফিল্ড সংযোজন ইউনাইটেডকে আরও নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলতে সাহায্য করতে পারে। মার্কাস র্যাশফোর্ডের ফিরে আসাও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে পুরো দলের কেন্দ্রবিন্দু এখনও ব্রুনো ফার্নান্দেস।
প্রশ্ন হলো, ইউনাইটেড কি এবারও একজন বা দুজন খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ওপর নির্ভর করবে, নাকি সত্যিকার অর্থে একটি সুসংগঠিত দল হয়ে উঠবে?
ক্যারিকের প্রথম পূর্ণ মৌসুমের সাফল্য নির্ভর করবে এই প্রশ্নের উত্তরের ওপর।

নিউক্যাসলের পুনর্গঠন, টটেনহামের পুনর্জন্মের চেষ্টা
নিউক্যাসল ইউনাইটেডের জন্য এবারের মৌসুম হতে যাচ্ছে এক ধরনের পুনর্গঠনের সময়।
এডি হাওয়ের বিদায়ের পর ম্যাথিয়াস ইয়াইসলের হাতে নতুন দায়িত্ব। কিন্তু ব্রুনো গিমারায়েস, সান্দ্রো তোনালি ও অ্যান্থনি গর্ডনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের বিদায়ের পর নতুন দল গঠন সহজ হবে না।
তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়ে ভবিষ্যতের ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব, কিন্তু প্রিমিয়ার লিগ অপেক্ষা করে না।
প্রতিটি মৌসুমে কয়েকটি ক্লাব থাকে যারা পুনর্গঠনের কথা বলে সময় নিতে চায়। কিন্তু লিগ টেবিল, সমর্থক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা কাউকে খুব বেশি সময় দেয় না।
টটেনহামের পরিস্থিতি আরও নাটকীয়।
গত মৌসুমে ১৭তম স্থানে থেকে অবনমন এড়ানো ক্লাবটি এবার রবার্তো দে জারবির হাতে নতুন ফুটবল দর্শন খুঁজছে। সান্দ্রো তোনালি, মাতেউস ফার্নান্দেস ও জান-পল ভান হেকের মতো সংযোজন দলকে নতুন চেহারা দিতে পারে।
কিন্তু দে জারবির ফুটবল কার্যকর করতে সময় লাগে। উচ্চ ঝুঁকির আক্রমণাত্মক ফুটবলের সঙ্গে রক্ষণাত্মক স্থিতিশীলতার ভারসাম্য খুঁজে না পেলে টটেনহামের সমস্যাগুলো থেকেই যেতে পারে।
শীর্ষ চারের বাইরে লড়াইও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়
প্রিমিয়ার লিগের সৌন্দর্য এখানেই—লড়াই শুধু শিরোপার জন্য হয় না।
অ্যাস্টন ভিলা গত মৌসুমের সাফল্যের পর এবার নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন খেলোয়াড়ের বিদায়ের পর তাদের স্কোয়াডের গভীরতা পরীক্ষা হবে।
বোর্নমাউথ প্রথমবার ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় খেলবে। সাফল্য অনেক সময় নতুন চাপও তৈরি করে। বৃহস্পতিবার ইউরোপে ম্যাচ খেলে সপ্তাহান্তে প্রিমিয়ার লিগে সমান তীব্রতায় খেলা—এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা।
নটিংহ্যাম ফরেস্ট, ব্রাইটন ও ব্রেন্টফোর্ডও চমক দেওয়ার সামর্থ্য রাখে। প্রিমিয়ার লিগের সাম্প্রতিক ইতিহাস বলছে, ‘বড় ছয়’-এর বাইরে থাকা দলগুলোকেও এখন আর সহজে উপেক্ষা করা যায় না।
নতুন তিন দলের জন্য টিকে থাকাই প্রথম লক্ষ্য
কোভেন্ট্রি, হাল ও ইপসউইচ—তিন দলই নতুন মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ফিরেছে ভিন্ন ভিন্ন গল্প নিয়ে।
কোভেন্ট্রির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রিমিয়ার লিগে ফেরা আবেগের বিষয়। হাল ব্যাপকভাবে স্কোয়াড পরিবর্তন করেছে। আর ইপসউইচ বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করে নিজেদের প্রস্তুত করার চেষ্টা করেছে।
কিন্তু প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে নির্মম সত্য হলো—টাকা খরচ করলেই টিকে থাকা নিশ্চিত হয় না।
চ্যাম্পিয়নশিপ ও প্রিমিয়ার লিগের মধ্যে শুধু আর্থিক নয়, কৌশলগত ও শারীরিক ব্যবধানও বিশাল। নতুন দলগুলোর জন্য প্রথম দশ ম্যাচই অনেক কিছু বলে দিতে পারে।
একটি ভালো শুরু আত্মবিশ্বাস তৈরি করবে। আর খারাপ শুরু হলে মৌসুমজুড়ে অবনমনের ভয় তাড়া করতে পারে।
নয়টি দল ইউরোপে, তাই স্কোয়াডের গভীরতাই হতে পারে নির্ধারক
এবার ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় খেলবে প্রিমিয়ার লিগের নয়টি দল। ফলে মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে ম্যাচের চাপ আরও বাড়বে।
শুধু প্রথম একাদশ দিয়ে এখন আর পুরো মৌসুম পার করা যায় না। বেঞ্চের শক্তি, তরুণদের মান, চোট সামলানোর ক্ষমতা এবং খেলোয়াড়দের রোটেশন—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
অনেক সময় মৌসুমের শুরুতে সবচেয়ে শক্তিশালী মনে হওয়া দলটি ফেব্রুয়ারি-মার্চে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। আবার তুলনামূলক ছোট স্কোয়াডের কোনো দল কম ম্যাচ খেলে ধারাবাহিকভাবে পয়েন্ট তুলতে থাকে।
সুতরাং শিরোপা লড়াইয়ের সমীকরণে শুধু তারকার নাম যথেষ্ট নয়।
তাহলে কারা এগিয়ে?
মৌসুমের শুরুতে আর্সেনালকে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল মনে হচ্ছে। তাদের কোচ, কাঠামো এবং মূল খেলোয়াড়দের ধারাবাহিকতা তাদের বড় সুবিধা।
ম্যানচেস্টার সিটির সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ নেই, কিন্তু পেপ–পরবর্তী বাস্তবতায় তাদের অনিশ্চয়তাও সবচেয়ে বেশি।
লিভারপুলের সামনে নতুন আক্রমণাত্মক পরিচয় তৈরির চ্যালেঞ্জ। চেলসি ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সামনে নিজেদের প্রমাণের মৌসুম। টটেনহ্যাম ও নিউক্যাসল পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যাবে।
আর প্রিমিয়ার লিগের পুরোনো সত্যটি এবারও প্রযোজ্য—আগস্টে যা অসম্ভব মনে হয়, মে মাসে সেটিই বাস্তব হয়ে যেতে পারে।
শেষ কথা
২০২৬–২৭ মৌসুমের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় সম্ভবত এই অনিশ্চয়তাই।
একদিকে আর্সেনাল নিজেদের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়। অন্যদিকে ম্যানচেস্টার সিটি একটি কিংবদন্তিতুল্য যুগের পর নিজেদের নতুন করে আবিষ্কার করতে চাইছে। লিভারপুল সালাহ–পরবর্তী বাস্তবতার মুখোমুখি। চেলসি আবারও নিজেদের পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সামনে পুরোনো গৌরবের দিকে ফেরার আরেকটি সুযোগ।
প্রিমিয়ার লিগে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিতবে হয়তো একটি দলই। কিন্তু এই মৌসুমের গল্প হবে অনেক বড়।
কেউ নিজেদের রাজত্ব ধরে রাখতে নামবে, কেউ হারানো পরিচয় খুঁজবে, কেউ নতুন করে শুরু করবে, আর কেউ প্রমাণ করতে চাইবে—ইংল্যান্ডের ফুটবলের পুরোনো ক্ষমতার কাঠামো আর আগের মতো নেই।
আজ থেকে শুরু সেই গল্পের নতুন অধ্যায়।