জানো, বিলকুল মানুষের মতো দেখতে;
তবু ওরা কেউ মানুষ ছিলো না—
ক্ষমতার মসনদের প্রতি লোভাতুর,
অপশাসনের মূলে সাইকোপ্যাথের মন্ত্রণা।
ঘুম ভেঙ্গে দেখি, রক্তিম রাজপথ-মিডিয়া;
বিক্ষুব্ধ জনসমুদ্রের কণ্ঠে একতার সুর,
আপামর ছাত্রজনতা বিদ্রোহী-আগুয়ান,
শপথ— ‘স্বৈরশক্তির অনিবার্য দূর’!
কোন ভাগাড়ে মনুষ্যত্বকে কবর দিয়ে,
শাসক হয়ে ওঠে সর্বগ্রাসী শোষকশ্রেণী?
আবারও গণহত্যা, রক্তরঞ্জিত রাজপথ—
আমরাও সাক্ষী, যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি।
স্বাধীনতার বীজমন্ত্রে দীক্ষিত মোরা,
মানবোনা কোনো দাসত্বের গোলামি;
আজ কলম ছেড়ে প্ল্যাকার্ড হাতে ধরি—
ন্যায্য অধিকার আদায়, বড় বেশি দামী।
অঝোর বুলেটের নীচে পেতে দিয়ে বুক;
বলে গিয়েছিলো, শহীদ আবু সাঈদ—
‘আমার লাশটা রাস্তায় ফেলে রেখো’
পৃথিবী দেখুক, বীরদর্পে নির্ভীকতার ভিত।
সফেদ বেহেশতী পাখিরূপে উড়ছেন তাঁরা,
ফাঁসির কাষ্ঠে নিরপরাধ মুজাহিদীন,
জালিমের বিরুদ্ধে জিহাদি চেতনায়—
সানন্দে শাহাদাতকে করে আলিঙ্গন।
রক্তপিপাসু বুনো শকুনির নির্মম পরাজয়,
কালোরাত্রির অবসানে দ্যাখো সত্যের অবমুক্তি—
এসো, পূর্বাহ্নের ইলতেজায় করি শুকরিয়া জ্ঞাপন;
দেশমাতৃকার প্রতি অটুট থাকুক চির প্রেমাসক্তি।
মাতৃভূমির বুকজুড়ে আর না হোক
ছদ্মবেশী ফ্যাসিবাদীর উন্মোচন—
সহস্র শহীদের রক্তের মূল্য যে অপরিসীম;
পুনর্বার চাইনা বিধ্বংসী আগ্রাসন।
তাযকিয়া নওরীন সুবাহ