তুমি রাত লিখো, আমরা চাঁদ লিখবো,
তুমি লকারে (জেলে) ঢুকাও,
আমরা ঐ জেলের ফাঁদ কিভাবে ভাঙতে হয় তা লিখবো।
তুমি এফআইআর লিখো, আমরা প্রস্তুতি লিখবো,
তুমি আমাদের কতল করে দাও, আমরা ভূত হয়েও লিখবো,
তোমার হত্যাকাণ্ডের সব প্রমাণ লিখে রাখবো।
তুমি আদালতে বসে চুটকুলি লিখো,
আমরা রাস্তায়-দেওয়ালে ইনসাফ লিখবো,
বধির ও শুনতে পায় এতোটা উচ্চ রবে স্লোগান তুলবো,
অন্ধ ও পড়ে ফেলবে এমন পরিষ্কার লিখে ফেলবো।
তুমি পদ্মকে কালো করে তুলো, আমরা লাল গোলাপ লিখতে থাকবো,
তুমি জমিনে জুলুম করতে থাকো, আমরা আসমানে ইনকিলাব লিখবো।
সব মনে রাখা হবে,
সব কিছু মনে রাখা হবে।।।।
**
আর তোমার লাঠি ও গুলিতে,
আমার যে সব ভাই শহীদ হয়েছে,
তাদের স্মরণে অন্তর গুলোকে বরবাদ রাখা হবে,
সব মনে রাখা হবে,
সব কিছু মনে রাখা হবে।।।
তুমি মিথ্যে এজহার দিয়ে মিথ্যাচার লিখো,
আমরা জানি,,,,,,
আমাদের রক্ত দিয়ে হলেও, সত্য অবশ্যই লেখা হবে।
সব মনে রাখা হবে,
সব কিছু মনে রাখা হবে।।।
*
মোবাইল, টেলিফোন, ইন্টারনেট ভরদুপুরে বন্ধ করে,
উৎকণ্ঠার আঁধার রাতে পুরো শহরকে নজরবন্দী করে,
পুলিশ-র্যাব-বিজিবি নিয়ে হঠাৎ আমার ঘরে রেইড দেওয়া,
আমার মাথা-শরীর,
আমার এই ছোট্ট জীবনকে ভেঙ্গেচুরে যাওয়া,
আমার লখত-জিগার, প্রাণের ধন,
আমার প্রাণপ্রতিমকে মাঝ রাস্তায় মেরে ফেলা,
স্বেচ্ছাচারী, মিথ্যার বেসারতির উপর দাঁড়িয়ে,
তোমার এই মায়াকান্না, শোক-নাটক।
সব মনে রাখা হবে,
সব কিছু মনে রাখা হবে।।।
**
দিবালোকে সামনে থেকে মিষ্টি কথা আওড়িয়ে,
সব ঠিকঠাক, সব ঠিকঠাক তুতলিয়ে,
রাত হতেই অধিকার উমেদারদের উপর লাঠি গুলি গ্রেফতার চালানো,
আমাদের উপর হামলা করে,
আমাদেরকেই হামলাকারী বলা।
সব মনে রাখা হবে,
সব কিছু মনে রাখা হবে।।।
আমি আমার হাড্ডিতে লিখে রাখবো এসব অত্যাচার,
আমি আমার হাড্ডিতে লিখে রাখবো এসব অত্যাচার,
তুমি যে আমার অস্তিত্বের খোঁজো দস্তাবেজ,
আমার অস্তিত্বের প্রমাণ তোমাকে অবশ্যই দেওয়া হবে,
এই যুদ্ধ তোমার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়া হবে,
সব মনে রাখা হবে।
এটাও মনে রাখা হবে, কতোভাবে
তুমি দেশকে অস্তিত্বহীন করার চেষ্টা করেছো,
এটাও মনে রাখা হবে, কতো কতো ভাবে,
আমরা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার চেষ্টা করেছি,
এটাও মনে রাখা হবে।
আর যখনই পৃথিবীতে উত্থাপন করা হবে, ভীরুতা-কাপুরুষতার নিদর্শন,
তোমার কর্মকাণ্ড-আচরণ মনে রাখা হবে
আর যখন পৃথিবীতে স্মরণীয় জীবনের কথা আসবে,
আমাদের নাম মনে রাখা হবে,
যে কিছু ছাত্র জনতা ছিলো, যাদের মনোবল ভাঙ্গেনি গুলি-টিয়ারশেলের আঘাতে,
কিছু শিক্ষক ছিল, যাদের মেরুদন্ড বাঁকা হয়নি।
তোমাদের যেভাবে বিবেক বিক্রি হয়েছে, তাদের বিবেক বিক্রি হয়নি।
যে কিছু লোক তখনও অবিচল ছিল,
নুহ (আঃ)’র সময়ের তুফান চলে যাওয়ার পরও,
কিছু লোক ছিলো,
যারা আবু সাঈদ, ওয়াসিম, তরুয়ার মতো তাদের মৃত্যু সংবাদ এর পরও জীবিত ছিল।
চোখ পলক ফেলতে ভুলে যেতে পারে,
পৃথিবী তার কক্ষপথে চলা ভুলে যেতে পারে,
আমাদের কেটে ফেলা পায়ের ডানা,
আমাদের ভেঙ্গে যাওয়া গলার আওয়াজ,
এগুলো মনে রাখা হবে।।। ।।।
তুমি রাত লিখো, আমরা চাঁদ লিখবো,
তুমি লকারে (জেলে) ঢুকাও,
আমরা জেলের ফাঁদ কিভাবে ভাঙতে হয় তা লিখবো।
তুমি এফআইআর লিখো, আমরা প্রস্তুতি লিখবো,
তুমি আমাদের কতল করে দাও, আমরা ভূত হয়েও লিখবো,
তোমার হত্যাকাণ্ডের সব প্রমাণ লিখে রাখবো।
তুমি আদালতে বসে চুটকুলি লিখো,
আমরা রাস্তায়-দেওয়ালে ইনসাফ লিখবো,
বধির ও শুনতে পাই এতোটা উচ্চ রবে স্লোগান তুলবো,
অন্ধ ও পড়ে ফেলবে এমন পরিষ্কার লিখে ফেলবো।
তুমি পদ্মকে কালো করে তুলো, আমরা লাল গোলাপ লিখতে থাকবো,
তুমি জমিনে জুলুম করতে থাকো, আমরা আসমানে ইনকিলাব লিখবো।
সব মনে রাখা হবে,
সব কিছু মনে রাখা হবে।।।।
যাতে তোমার নামের উপর,
আজীবন লানত-অভিশাপ পাঠানো যায়,
যাতে তোমার শরীরের উপর,
কালো কালি ফেলে অপমান করা যায়,
তোমার নাম, তোমার শরীর, আবাদ রাখা হবে।
সব মনে রাখা হবে,
সব কিছু মনে রাখা হবে।।।