টায়ার — সাইকেল থেকে শুরু করে গাড়ি, মটরবাইক, ট্রাক বা বাস — প্রায় সকল যানবাহনের টায়ে সাধারণত কালো রঙ দেখা যায়। কিন্তু কেন সব টায়ারই কালো হতে হয়? ইতিহাস, রাবার-উপাদান ও প্রযুক্তিগত কারণ একত্রে কাজ করেছে এই সিদ্ধান্তে।
ইতিহাসের এক ঝলক
মূলত যান্ত্রিক চাকায় কাঠ বা ধাতু ব্যবহার হতো। পরে রাবার ভিত্তিক টায়ার উদ্ভাবিত হয়। প্রথমদিকে রাবারের নিজস্ব রঙ ছিল হালকা ধবধবে (প্রাকৃতিক রাবারের রঙ)। সেই সময়ের টায়ারগুলো ছিল সাদা-ধবধবে রঙের — কারণ তখন রাবারে যুক্ত করা উপাদানের মধ্যে ছিল যেমন জিঙ্ক অক্সাইড, যার রঙ সাদা। কিন্তু প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং টায়ারের কার্যকারিতা বাড়াতে করণীয়তা বেশি হওয়ায় টায়ারের রং ধীরে ধীরে বদলে যায়।

কার্বন ব্ল্যাক কি এবং কেন ব্যবহার?
কার্বন ব্ল্যাক (Carbon Black) – মূল উপাদান। আজকের কালো টায়ারের রহস্য মূলত একটি রাবার সংমিশ্রণ উপাদান — Carbon Black (কার্বন ব্ল্যাক) — এর কারণে। এই উপাদান রাবারে যুক্ত হলে টায়ারের গুণগত মান অনেক বেশি উন্নত হয়।
কার্বন ব্ল্যাক হলো ভারী পেট্রোলিয়াম বা অন্যান্য হাইড্রোকার্বন জ্বালানীর অসম্পূর্ণ দহন থেকে উৎপাদিত একটি কালো পদার্থ।য় (সাধারণত) এবং এটি একটি রীতি নয়, এক প্রযুক্তিগত নির্বাচনের ফল।
এটি রাবার সংমিশ্রণে ফিলার (filler) ও রিইনফোর্সিং (reinforcing) উপাদান হিসেবে কাজ করে। এর মাধ্যমে টায়ারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গুণ বৃদ্ধি পায়, যেমন:
ঘর্ষণ প্রতিরোধক্ষমতা (abrasion resistance) এবং টান (tensile) ক্ষমতা বাড়ে।
তাপ অপচয় (heat dissipation) দ্রুত হয়, ফলে টায়ার অত্যাধিক গরম হয়ে দ্রুত ক্ষয় হয় না।
অতিবেগুনি রশ্মি (UV), ও ওজোন (ozone) থেকে রাবারকে সুরক্ষা দেয়।
বিদ্যুৎ চালনা (conductivity) বাড়িয়ে দেবে, যাতে টায়ার ও রাস্তার মাঝের স্থির-বিদ্যুৎ সঞ্চল হয়; কার্বন ব্ল্যাকে তা সহজ হয়।

ঐতিহাসিক পরিবর্তন
১৯১০-এর দশকে যেসব টায়ার তৈরি হচ্ছিল, তারা সাধারণত সাদা বা হালকা রঙের ছিল। তবে পরে দেখা যায় কার্বন ব্ল্যাক যুক্ত টায়ার অনেক বেশি স্থায়ী হয়। উদাহরণস্বরূপ, এক গবেষণায় বলা হয়েছে — যদি কার্বন ব্ল্যাক না যুক্ত হয়, তাহলে টায়ার মাত্র ≈৫ হাজার মাইল (≈৮ হাজার কিলোমিটার) চলতে পারে।
এর ফলে ধীরে ধীরে টায়ার শিল্প কারখানাগুলো সচেতন হয়, এবং আজকে প্রায় সব টায়ার কালো রঙে আসে।
সাদা বা অন্যান্য রঙের টায়ার – কেন বেশী দেখা যায় না?
সাদা বা হালকা রঙের টায়ারে ময়লা বা দাগ খুব দ্রুত দেখা দেয় — সার্বিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ কঠিন হয়।
যেসব রঙের টায়ার তৈরি করা যায় (উদাহরণস্বরূপ নির্দেশ আছে যে — “হ্যা, আপনি হালকা রঙের টায়ারও পাবেন”) — কিন্তু সেগুলো সাধারণ গুণগত মানের হয় না, কারণ কার্বন ব্ল্যাক যুক্ত না হলে টায়ারের ঘর্ষণ প্রতিরোধ, তাপ অপচয়, ও কার্যক্ষমতা কমে যাবে।
শেষপর্যায়ে, কালো রঙ এবং কার্বন ব্ল্যাক প্রযুক্তি-উপযোগিতার কারণে এই রঙ আজ সম্মত হয়ে গেছে।

প্রযুক্তিগত ও ব্যবহারিক দিক
টায়ার হলো গাড়ির এমন এক অংশ যা সরাসরি রাস্তাসহ ভূমির সঙ্গে যুক্ত থাকে — তাই এর কার্যক্ষমতা, গতি, নিয়ন্ত্রণ ও আরাম সবই টায়ারের গুণের ওপর নির্ভর করে।
রাবার তৈরির সময় বিভিন্ন রসায়ন (chemical) উপাদান যুক্ত হয় — যেমন কার্বন ব্ল্যাক, সিলিকা, তেল, সালফার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভলকানাইজেশনের উদ্দীপক (accelerator) ইত্যাদি। (আপনার লেখা অংশে উল্লেখ করা হয়েছে)
কার্বন ব্ল্যাক যুক্ত টায়ারগুলো গরম হয়ে গেলে তাপ দ্রুত ছড়িয়ে দেয়, তাই বেশি গরম না হয়ে টায়ারের আয়ু বাড়ে।
প্রায় সব যানবাহনের টায়ারই কালো অর্থাৎ এই প্রযুক্তি-নীতি প্রায় সর্বব্যাপী।
টায়ারের রং শুধুই একটি নান্দনিক সিদ্ধান্ত নয় — এটি কার্যক্ষমতা, নিরাপত্তা ও স্থায়িত্বের অংশ। কালো হওয়া মানেই রাবার সংমিশ্রণে কার্বন ব্ল্যাক যুক্ত আছে, যা টায়ারকে দারুণভাবে শক্তিশালী, দীর্ঘস্থায়ী ও নিরাপদ করে তোলে। তাই রাস্তার অনেক গাড়ির টায়ার কালো হয়।